অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশের কৃতি সন্তানদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন–এ আয়োজিত এক মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দেন ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি ব্যান্ড দলের হাতে।
এদিন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রদান করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্প–সাহিত্যচর্চাকে রাজনীতিকরণের ঊর্ধ্বে রাখা সভ্য সমাজের অপরিহার্য শর্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জ্ঞান–বিজ্ঞানের সব শাখায় অগ্রগতির জন্য নৈতিক মানসম্পন্ন ও উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র পরিচালনা করলেও জ্ঞানী–গুণীজন সমাজকে দিকনির্দেশনা দেন। কৃতী মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, সমাজ তত সমৃদ্ধ ও আলোকিত হবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেন। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে এই পদক কেবল সম্মাননা নয়, বরং ইতিহাস ও কৃতিত্বের এক সেতুবন্ধন।
এবারের পদকপ্রাপ্তরা
চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন ফরিদা আক্তার ববিতা। চারুকলায় অধ্যাপক মো. আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাশ্যুম, সংগীতে (মরণোত্তর) আইয়ুব বাচ্চু, নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এবং নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদ পদক লাভ করেন।
এ ছাড়া জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ সংগীত দল হিসেবে সম্মানিত হয়।

মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্ত আইয়ুব বাচ্চুর পক্ষে তাঁর স্ত্রী ফেরদৌস আখতার চন্দনা পদক গ্রহণ করেন। আর ওয়ারফেজের পক্ষে দলনেতা শেখ মনিরুল আলম সম্মাননা নেন।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি পদকপ্রাপ্তদের নাম ও অবদান পাঠ করে শোনান এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং সামরিক–বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।