সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী বাউল গানের আসরে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
গত শুক্রবার রাতে উপজেলার একটি গ্রামে আয়োজিত এই বাউল গানের আসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বাউল শিল্পীরা অংশ নেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন অনুষ্ঠান জমে ওঠে, তখন হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত মঞ্চে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে শিল্পীদের মারধর করে এবং মঞ্চের বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করে।
এ ঘটনায় অন্তত কয়েকজন বাউল শিল্পী ও দর্শক আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হামলার কারণে অনুষ্ঠানটি মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়, ফলে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বাউল গানের এই আসরটি নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং এটি স্থানীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর শত শত দর্শক এই আসরে যোগ দিয়ে লোকসংগীতের ঐতিহ্য উপভোগ করেন।
ঘটনার পরপরই সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা এই হামলাকে দেশের লোকজ সংস্কৃতির ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।
সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাউল গান বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ধরনের হামলা শুধু একটি অনুষ্ঠানের ওপর নয়, বরং দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত। তাই এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনিক পদক্ষেপও জরুরি।