বিজ্ঞান কল্পকাহিনির জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোতে সাধারণত যুদ্ধ, অস্ত্র আর বীরত্বপূর্ণ লড়াইই প্রধান হয়ে ওঠে। যেমন স্টার ওয়ার,ডিউন,এভাটার বা ইনডেপেন্ডেন্স ডে—এগুলোর গল্পে নায়কদের দক্ষতা প্রায়ই অস্ত্র আর যুদ্ধে নির্ধারিত হয়। তবে আসন্ন বিজ্ঞান কল্পকাহিনি চলচ্চিত্র ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ সেই ধারা থেকে ভিন্ন এক গল্প নিয়ে আসছে, যেখানে শক্তির চেয়ে বুদ্ধি, বিজ্ঞান ও সহযোগিতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিখ্যাত বিজ্ঞান কল্পকাহিনি লেখক এ্যান্ডি অয়ার-এর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য লিখেছেন ড্রিউ গডার। পরিচালনায় রয়েছেন ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলার, যারা এর আগে দ্যা লেগো মুভি-এর মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন।
চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্র রাইল্যান্ড গ্রেসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রায়ান গসলি। গল্পের শুরুতেই দেখা যায়, একটি বিশাল মহাকাশযানে অজানা এক তারকার দিকে ধাবমান অবস্থায় জেগে ওঠেন তিনি। দীর্ঘ সময় কৃত্রিম কোমায় থাকার কারণে তার স্মৃতি ঝাপসা হয়ে গেছে, আর যাত্রাপথে তার দুই সহযাত্রী ইতিমধ্যেই মারা গেছেন।
ধীরে ধীরে গ্রেসের মনে পড়ে যায়, তিনি একজন জীববিজ্ঞানী। পৃথিবীকে রক্ষা করার এক গুরুত্বপূর্ণ মিশনের জন্য তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন এক বিজ্ঞান কর্মকর্তা, যার ভূমিকায় রয়েছেন সান্ড্রা হুলার। কারণ, “অ্যাস্ট্রোফেজ” নামে রহস্যময় ভিনগ্রহী অণুজীব সূর্যের শক্তি শোষণ করে নিচ্ছে, যার ফলে পৃথিবী দ্রুত ঠান্ডা হয়ে জীবন ধারণের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে।
গ্রেসের দায়িত্ব হলো খুঁজে বের করা কেন একটি নির্দিষ্ট দূরবর্তী তারকা এই অণুজীবের আক্রমণ থেকে মুক্ত রয়েছে এবং সেই রহস্য পৃথিবীতে পাঠানো। যদিও তার মহাকাশযানে ফিরে আসার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি নেই।
মিশনের এক পর্যায়ে গ্রেস আবিষ্কার করেন, আরেকটি গ্রহ থেকে একই উদ্দেশ্যে পাঠানো আরেকটি মহাকাশযানও সেখানে পৌঁছেছে। সেখানে একমাত্র জীবিত সদস্য হলো পাথরের মতো গঠনের এক অদ্ভুত কাঁকড়া-সদৃশ ভিনগ্রহী প্রাণী, যাকে গ্রেস নাম দেন “রকি”। কম্পিউটার অনুবাদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে ওঠে। এই চরিত্রটির কণ্ঠ দিয়েছেন পাপেট শিল্পী জেমস অরটিজ।
দুই ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটেরও বেশি সময়ের এই চলচ্চিত্রে অ্যাকশনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা, গবেষণা ও জটিল প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান। তবু পরিচালকদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনার কারণে গল্পটি বিনোদনমূলক ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
চলচ্চিত্রটি একদিকে যেমন মানবজাতির অস্তিত্ব সংকটের গল্প বলে, তেমনি তুলে ধরে—মানুষের ভবিষ্যৎ টিকে থাকতে পারে জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, যোগাযোগ ও সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই। এই ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার কারণে চলচ্চিত্রটি আগামী বছরের অ্যাকাডেমি এওয়ার্ড-এ সম্ভাব্য সেরা চলচ্চিত্রের মনোনয়নের আলোচনায় ইতোমধ্যেই উঠে এসেছে।