সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় বাউল গানের আসরে নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি ওঠায় শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিল করেছেন আয়োজকরা। বৃহস্পতিবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া-রাধানগর গ্রামে এ আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আয়োজকদের দাবি, বাউল গান নয়, মূলত নারী শিল্পীদের গান পরিবেশন নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় দুই বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলীর পৃষ্ঠপোষকতায় এ বাউল গানের আসরের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বাউল গানের পাশাপাশি নারী শিল্পী নীলা ও তানিশার গান পরিবেশনের পরিকল্পনা ছিল। কয়েক দিন ধরে এলাকায় অনুষ্ঠানটির প্রচারও চলছিল।
তবে অনুষ্ঠানকে ঘিরে আপত্তি জানিয়ে বুধবার দিরাই থানায় লিখিত আবেদন করেন স্থানীয় বাসিন্দা আতাহার আলী রাহাত ও কামরুল হাসান মিটু। আবেদনে তাঁরা হাতিয়া গ্রামের ধর্মীয় পরিবেশ, ইসলামী ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়টি তুলে ধরেন।
আবেদনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাতিয়া গ্রামে একটি আলিম মাদ্রাসা, একজন আল্লাহর ওলির মাজার এবং অনেক আলেম-ওলামার বসবাস রয়েছে। তাঁদের দাবি, নারী শিল্পীদের দিয়ে গান পরিবেশনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এবং সংঘাত-সহিংসতা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও অনুরোধ জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়ে পৃষ্ঠপোষক শওকত আলী বলেন, “বাউল গান নিয়ে আপত্তি নয়, নারী শিল্পীদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা। আমরা আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছি।”
অন্যদিকে, অভিযোগকারী কামরুল হাসান মিটু বলেন, তাঁদের গ্রাম ইসলামী ঐতিহ্য অনুসরণ করে চলে। তাঁর আশঙ্কা, গ্রামের প্রচলিত ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হলে গান-বাজনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এ কারণেই তাঁরা অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, নারী শিল্পীদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দুই ব্যক্তি আবেদন করেছিলেন। পরে আয়োজক অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক চর্চা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সহাবস্থানের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।