ঢাকার সাংস্কৃতিক অঙ্গন গতকাল এক অনন্য সুরের আবেশে সিক্ত হয়েছে। গুরুপূর্ণিমা ২০২৬ উপলক্ষ্যে ‘ছন্দকলা-শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র’ আয়োজন করেছিল এক বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান—‘পেশকার’। জাতীয় চিত্রশালা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই সুরের এই মহোৎসব সংগীতপ্রেমীদের জন্য নিয়ে এসেছিল এক অপূর্ব আবেশ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘ছন্দকলা’র শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল যৌথ তবলাবাদন, যা দর্শকদের শুরুতে তাল ও ছন্দে মুগ্ধতায় আবদ্ধ করে ফেলে। এই পরিবেশনার নেপথ্যে ছিলেন ছন্দকলার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, তবলাগুরু মো: রাশেদুল হাসান জীবন।

এরপর একে একে মঞ্চ অলংকৃত করেন আরোহী সংগীত নিকেতনের শিক্ষার্থীরা, সংগীতগুরু ইমামুর রশীদের দক্ষ পরিচালনায় যাদের সমবেত পরিবেশনা ছিল বেশ প্রাণবন্ত। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তবলাগুরু মো. আরজু পারভেজের শিষ্য শ্রেয়ান রায় ও পার্থিক রায়ের দ্বৈত তবলাবাদন এবং উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী ও গুরু সাইফুল তানকার ও তাঁর শিষ্য রথীন টিকাদারের খেয়ালের যুগলবন্দী। রাগ যোগে মোহিত হয়ে দর্শকবৃন্দ মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে তাদের অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানের সংগীতের সম্ভারে যুক্ত ছিল রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত এবং লোকসংগীতের মূর্ছনা। তিলোত্তমা সেন ও তন্নী দের রবীন্দ্রসংগীত, ড. শিউলী ভট্টাচার্য ও তাঁর শিক্ষার্থীদের বেহালা বাদন, বিপাশা আহমেদের কণ্ঠে নজরুলসংগীত এবং সঞ্চিতা দত্তের বাংলা গান শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। এছাড়া শুক্লা হালদার ও সৌনিক দেবনাথের সারেঙ্গী ও এস্রাজ বাদন এবং রুদ্র রায় (কানাই)-এর যৌথ খোল বাদন ছিল অনুষ্ঠানের বিশেষ অনুষঙ্গ।

সাথ-সংগতে সুরজিৎ, আপন, সুপ্ত, সুকান্ত, প্রতিবিম্ব, ইমন ও দুর্জয়ের নিপুণ তালবাদন পরিবেশনাটিকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। যন্ত্রসংগীতে ফরহাদ (কিবোর্ড), জয় (গিটার), প্রদীপ (অক্টাপ্যাড) ও জাহিদ (দোতারা)-এর অনবদ্য সুরের ঝংকার অনুষ্ঠানটিতে যোগ করে এক নতুন মাত্রা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি সংগীত কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাদিয়া সোমা সামাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একই কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আনিকা রাইসা চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক ড. শেখ খালিদ হাসান এবং চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট ও আয়কর আইনজীবী রিপন কুমার বিশ্বাস। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীল উপস্থাপনায় পরিচালনা করেন সরকারি সংগীত কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দীপঙ্কর দাস।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ছন্দকলা-শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. রাশেদুল হাসান এবং শাহনাজ হাসানের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই আয়োজনটি যেন শাস্ত্রীয়সংগীতের চর্চাকে আরও বেগবান করার এক অনন্য প্রচেষ্টা। সংগীতপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে গতকাল জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির এই অডিটোরিয়াম যেন এক সুরের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছিল।