ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা অডিটোরিয়ামে শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার এক বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবলা, খোল, বেহালা, এস্রাজ, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, বাংলা গান ও উচ্চাঙ্গসংগীতের বৈচিত্র্যময় পরিবেশনায় মুখর ছিল পুরো অনুষ্ঠান।
ছন্দকলা শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের আয়োজনে গত ২০ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিষ্ঠিত সংগীতশিল্পী, শিক্ষক এবং নবীন শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। শাস্ত্রীয় ও বাংলা সংগীতের বিভিন্ন ধারার সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান দর্শক-শ্রোতাদের জন্য হয়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী ও গুরু সাইফুল তানকার এবং তাঁর শিষ্য রথীন টিকাদারের খেয়ালের যুগলবন্দী।
গুরু-শিষ্যের এই যৌথ পরিবেশনায় উচ্চাঙ্গসংগীতের রাগভিত্তিক পরিবেশনার পাশাপাশি আধ্যাত্ত্বিকতা ও নান্দনিকতার নিবিড় সমন্বয় ফুটে ওঠে।
শাস্ত্রীয়সংগীতের গুরু-শিষ্য পরম্পরাকে মঞ্চে জীবন্ত করে তোলার ক্ষেত্রে এই পরিবেশনাটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একই মঞ্চে অভিজ্ঞ গুরু ও তাঁর শিষ্যের অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের সংগীতশিক্ষা এবং শুদ্ধ উচ্চাঙ্গসংগীত চর্চার ধারাবাহিকতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।
গুরু সাইফুল তানকার ও শিষ্য রথীন টিকাদারের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা অনুষ্ঠানটিকে নিয়ে যায় এক ভিন্নমাত্রায়। প্রথমে বিলম্বিত রূপক তালে “ও বালমা কাব ঘর আওগে” পরে ত্রিতালে পণ্ডিত অরুণ ভাদুরীর চমৎকার একটি কম্পোজিশন “করলে বিচার গুণ অবগুননকো” গেয়ে শিল্পকলায় উপস্থিত সকল দর্শক শ্রোতার মন জয় করেন। পরিবেশনাটির সঙ্গে হারমোনিয়ামে সঙ্গত করেছেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য হরেমোনিয়াম একম্পানিস্ট মো: শাকুর, তবলায় ছিলেন এই সময়ের উদীয়মান তবলা শিল্পী কুমার প্রতিবিম্ব এবং তানপুরায় ছিলেন কবিতা মনি ও বিথি। উল্লেখ্য দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উচ্চাঙ্গসংগীতের চর্চা, পরিবেশনা ও শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত সাইফুল তানকার বর্তমানে সরকারি সংগীত কলেজ, আগারগাঁওয়ে উচ্চাঙ্গসংগীতের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সাধনা ও বহুমুখী গুরুপরম্পরার শিক্ষায় গড়ে ওঠা তাঁর সংগীতজীবন বাংলাদেশের শাস্ত্রীয়সংগীত চর্চার এক নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এপ্রসঙ্গে ছন্দকলার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো: রাশেদুল হাসান জীবন বলেন, “ছন্দকলা প্রতিবছর গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে গুরু শিষ্যের এই মিলন মেলার আয়োজন করে থাকে। সাইফুল তানকার ও রথীন টিকাদারের এই ধ্যানমগ্ন পরিবেশনা শাস্ত্রীয়সংগীতের সম্মোহনী শক্তির এক মূর্ত প্রকাশরূপে ধরা দিল এই মিলনায়তনে।”
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারি সংগীত কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাদিয়া সোমা সামাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি সংগীত কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আনিকা রাইসা চৌধুরী, লোকসংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শেখ খালিদ হাসান এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও আয়কর আইনজীবী রিপন কুমার বিশ্বাস।