জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির বর্ণিল আয়োজনে কবিকে স্মরণ করল ছায়ানট। নজরুলের সৃষ্টিশীলতা, মুক্তচিন্তা, বিদ্রোহী চেতনা ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসকে ধারণ করে সাজানো হয় পুরো আয়োজন। একক ও সমবেত সংগীত, নৃত্য এবং আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শিল্পীরা তুলে ধরেন নজরুলের বহুমাত্রিক সৃষ্টির নানা দিক।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা নজরুলের সঙ্গে ঢাকার সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল চেতনার ঐতিহাসিক যোগসূত্রের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নবীনের আবাহনের মধ্য দিয়ে নজরুল ইসলাম ‘শিখা’ গোষ্ঠীকে বরণ করেছিলেন। শত বছর আগে ঢাকার নবীনদের সেই সংঘ নতুন চিন্তা ও সমাজ-মুক্তির যে আদর্শের জন্ম দিয়েছিল, তারই বন্দনায় গান ও কবিতার মাধ্যমে ঢাকাবাসীর চিত্ত আলোড়িত করেছিলেন নবযৌবনের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মুক্তবুদ্ধি ও বিদ্রোহী তারুণ্যের সেই অনন্য সম্মিলনের শতবর্ষ স্মরণেই ছায়ানটের এই আয়োজন—জানান লাইসা আহমদ লিসা।

অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন গার্গী ঘোষ। তাঁর কণ্ঠে শোনা যায় নজরুলের গান ‘আসিলে কে গো অতিথি উড়ায়ে নিশান’। এরপর ছায়ানটের শিল্পীদের সমবেত গান ও নৃত্যে পরিবেশিত হয় ‘ওঠ্ রে চাষী, জগৎবাসী, ধর্ কষে লাঙল’ এবং ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’। সমবেত কণ্ঠে ‘চল্ চল্ চল্’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় উদ্দীপনাময় আবহ।

একক পরিবেশনায় নজরুলের গান নিয়ে মঞ্চে আসেন দেশের বিশিষ্ট ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা। শাহীন সামাদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘এত জল ও-কাজল চোখে’। বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী পরিবেশন করেন ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’। ঐশ্বর্য সমাদ্দারের কণ্ঠে শোনা যায় ‘আমি কি সুখে লো’, আর রেজাউল করিম পরিবেশন করেন ‘বসিয়া নদী কূলে’। মিরাজুল জান্নাত সোনিয়ার পরিবেশনায় ‘না মিটিয়ে সাধ মোর’ গানটিও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

এ ছাড়া একক কণ্ঠে নজরুলের গান পরিবেশন করেন আফসানা রুনা, সুমন মজুমদার, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি, শারমিন সাথী ইসলাম ও সনজিদা বীথিকা।
সংগীতের পাশাপাশি আবৃত্তিতেও উঠে আসে নজরুলের সৃষ্টির শক্তি ও দ্রোহের ভাষা। কবির ‘খালেদ’ কবিতার অংশবিশেষ যৌথভাবে আবৃত্তি করেন মাহমুদা আখতার ও দেওয়ান সাঈদুল হাসান।
নজরুলের গান ও কবিতার মধ্য দিয়ে এদিন ছায়ানটের মিলনায়তনে যেন ফিরে আসে এক শতবর্ষ আগের ঢাকার সাংস্কৃতিক আবহ। তাঁর সৃষ্টিতে নিহিত সাম্য, মানবতা, মুক্তবুদ্ধি ও তারুণ্যের যে অদম্য শক্তি আজও বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনাকে আলোড়িত করে, গান, নৃত্য ও আবৃত্তির এই আয়োজন সেই চিরজাগরূক নজরুল-চেতনাকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।